বর্তমান ব্যস্ত জীবনে শরীরচর্চার জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের কাছেই কঠিন হয়ে উঠছে। তবুও সুস্থ থাকতে এবং বাড়তি মেদ ঝরাতে নিয়মিত কিছু যোগাসনের অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে পেটের মেদ কমানো আজকাল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যার সহজ ও কার্যকর সমাধান হতে পারে পার্শ্বকোনাসন।
পেটের মেদ কমাতে কেন এই আসন কার্যকর
অনেকেই জিমে নিয়মিত ঘাম ঝরালেও লক্ষ্য করেন যে শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় পেটের চর্বি সহজে কমতে চায় না। কারণ পেটের মেদ জমে থাকে গভীরে। Parsvakonasana এই জায়গাতেই কাজ করে। এই আসনের মাধ্যমে শরীরের পাশের অংশ, কোমর ও পেট ভালোভাবে স্ট্রেচ হয়, যা চর্বি গলাতে সাহায্য করে।
পার্শ্বকোনাসন কীভাবে শরীরে উপকার আনে
এই যোগাসন শুধু পেটের মেদ কমায় না, বরং সার্বিকভাবে শরীরকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত Parsvakonasana অভ্যাস করলে—
- কোমর ও পিঠের ব্যথা ধীরে ধীরে কমে
- শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ে
- দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে হওয়া জড়তা কাটে
- সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময়ের ব্যথা অনেকটাই কমে যায়
অফিসে কাজ করা মানুষদের জন্য কেন জরুরি
আজকাল অল্প বয়স থেকেই অনেকেই কোমর ও পিঠের ব্যথায় ভুগছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেয়ার বা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে এই সমস্যা আরও বাড়ছে। এই অবস্থায় নিয়মিত পার্শ্বকোনাসন করলে দৈনন্দিন ব্যথা থেকে অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যায়। এটি ধীরে ধীরে শরীরের পেশিকে শক্তিশালী করে।
পার্শ্বকোনাসন Parsvakonasana করার সঠিক নিয়ম
এই আসনটি খুব সহজে বাড়িতেই করা যায়। নিয়মগুলো মন দিয়ে অনুসরণ করুন—
- প্রথমে একটি যোগা ম্যাটের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়ান
- দুই পায়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ব্যবধান রাখুন
- ডান পা ৯০ ডিগ্রি কোণে ভাঁজ করুন
- ডান হাতটি ডান হাঁটুর ওপর রাখুন
- বাঁ হাতটি মাথার উপর দিয়ে সোজা প্রসারিত করুন
- শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০–৩০ সেকেন্ড থাকুন
- এবার পা বদলে একইভাবে আবার করুন
নিয়মিত অভ্যাসে মিলবে দ্রুত ফল
ডায়েটের সঙ্গে যদি নিয়মিত Parsvakonasana অভ্যাস করা যায়, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পেটের মেদ কমতে শুরু করে। পাশাপাশি শরীর হালকা লাগে এবং কাজের সময় ক্লান্তি কম হয়। দিনে কয়েক মিনিট সময় দিলেই এই যোগাসন থেকে দীর্ঘমেয়াদি উপকার পাওয়া সম্ভব।





