SIR Election Commission of India

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা SIR পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, কার নাম থাকবে ভোটার তালিকায় আর কার নাম বাদ পড়বে। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল কীভাবে এই প্রক্রিয়া চলবে, তবুও অনিশ্চয়তা কাটছিল না। ঠিক সেই সময়েই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাল নির্বাচন কমিশন।

খসড়া প্রকাশের আগেই প্রকাশ নাম বাদের তালিকা

মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তার আগেই কমিশন জানিয়ে দেয়, কারা এই তালিকায় থাকছেন না। অর্থাৎ নাম বাদের তালিকা আগেভাগেই প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের SIR প্রক্রিয়ায় এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, খসড়ার আগেই বাদ পড়া ভোটাররা বিষয়টি জানতে পারছেন।

কোথায় এবং কীভাবে মিলবে নাম বাদের তথ্য

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ceowestbengal.wb.gov.in ওয়েবসাইটে এই তালিকা পাওয়া যাচ্ছে। বিধানসভা কেন্দ্র ও বুথ অনুযায়ী কতজনের নাম বাদ গেছে, তার সম্পূর্ণ তথ্য সেখানে দেওয়া রয়েছে। সাধারণ মানুষ খুব সহজেই ওয়েবসাইটে ঢুকে তালিকা ডাউনলোড করতে পারছেন। SIR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানাচ্ছে কমিশন।

কবে থেকে আপডেট হচ্ছে এই তালিকা

কমিশন সূত্রে খবর, প্রথমবার এই নাম বাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল গত ১১ ডিসেম্বর। তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই সেই তালিকা আপডেট করা হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনেই আপাতভাবে চূড়ান্ত তথ্য সামনে আনা হল। এতে করে SIR পর্বে কোনও বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

কেন বাদ পড়ছে লক্ষ লক্ষ নাম

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্যভাবে নাম বাদের সংখ্যা ছিল ৫৮ লক্ষেরও বেশি। এর মধ্যে মৃত ভোটার ছিলেন প্রায় ২৪ লক্ষের বেশি। নিখোঁজ ভোটারের সংখ্যা ছিল ১২ লক্ষের কাছাকাছি। অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন প্রায় ১৯ লক্ষ ভোটার। ভুয়ো ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৮৩ হাজার মানুষ। এছাড়াও অন্যান্য কারণে কয়েক হাজার নাম বাদ গিয়েছে। SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তথ্য যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনে কেন এই ধাপ গুরুত্বপূর্ণ

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনেই নাম বাদের তথ্য প্রকাশ করায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় SIR আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। যাঁদের নাম বাদ গেছে, তাঁরা এখনই বিষয়টি জানতে পারছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *